ফোনের তথ্যে ইচ্ছেমতো নজরদারি চালাচ্ছে অ্যাপল!

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ১২:৪৯  
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে রাখা তথ্য কতখানি সুরক্ষিত সে বিষয়ে সন্দেহ নতুন নয়। তাই সাধ্যের খানিকটা বাইরে গিয়েও আইফোন কেনেন অতি সংবেদনশীলেরা। কিন্তু সেই অ্যাপলও নাকি কাথা রাখছে না। ফোনে রাখা তথ্যের উপর নজরদারি চালাচ্ছে ইচ্ছেমতো। আইফোনের নিরাপত্তা নিয়ে এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন খোদ আইফোন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী দুই গবেষক। তাদের দাবি, ‘ডিরেক্টরি সার্ভিসেস আইডেন্টিফায়ার’ বা ‘ডিএসএলডি’-র মাধ্যমে ব্যবহারকারীর যাবতীয় কর্মকাণ্ডের উপর নজরদারি চালাচ্ছে আইফোন। বিল্টইন অ্যাপের মাধ্যমে গোপনে অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল মিউজিক, অ্যাপল টিভিসহ অ্যাপল বুকস অ্যাপ ব্যবহার করলেই সব তথ্য চলে যাচ্ছে অ্যাপলের দখলে। শুধু তাই নয়, আইফোনের সিরিয়াল নম্বর এবং মডেলের তথ্যও সংগ্রহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। আইওএস ১৪.৫ অপারেটিং সিস্টেমে চলা আইফোনের ওপর গবেষণা চালিয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন নিরাপত্তা গবেষকরা। অবশ্য অ্যাপল ইনকরপোরেটেডের ‘ডিভাইস অ্যানালিটিক্স অ্যান্ড প্রাইভেসি ফোরাম’ থেকে জানানো হয়েছে- যে তথ্যগুলো ব্যবহারকারীকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনিয়ে দিতে পারে আইফোন ব্যবহারকারীর ফোন থেকে এমন কোনও তথ্য সংগ্রহ করে না। ‘ডিএসআইডি’ শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর নাম, মেইল আইডি এবং স্বেচ্ছায় ‘আইক্লাউড’-এ রাখা তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, ব্যবহারকারীর রুচি, পছন্দ, এমনকি, তিনি ফোনের অ্যাপ স্টোর থেকে কী ধরনের অ্যাপ্লিকেশন খুঁজছেন এই সব কিছুর উপর নজর রাখে ‘অ্যাপল’। এক টুইটে ওই দুই গবেষকের একজন মিস্ক- অ্যাপল কী ভাবে কাজ করে সেই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরেছে। বলা হচ্ছে,এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অ্যাপগুলো কোন সুবিধা বেশি ব্যবহার করছেন, কোন ধরনের বিজ্ঞাপন বা ভিডিও কতক্ষণ দেখছেন, সব তথ্যই সংগ্রহ করে অপারেটিং সিস্টেমটি। সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহারকারীদের অজান্তেই চলে যায় অ্যাপলের সার্ভারে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ জানতেই এমনটি করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপগুলোর কোড বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানান, ব্যবহারকারীদের কার্যক্রমের তথ্য পাঠানোর জন্য আইওএসে বিশেষ ধরনের কোড যুক্ত করা হয়েছে। কোডটি নির্দিষ্ট সময় পর অ্যাপলের কাছে তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে। ফলে ব্যবহারকারীদের তথ্যগুলো সহজেই সংগ্রহ করতে পারে অ্যাপল। গবেষকদের ধারণা, আইওএসের হালনাগাদ সংস্করণেও কোডটি কাজে লাগিয়ে ব্যবহারকারীদের ওপর নজরদারি করতে পারে অ্যাপল। যদিও নিজের সপক্ষে আইফোন নির্মাতার দাবি, ব্যবহারকারীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য যেটুকু তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, শুধু সেইটুকু নিয়েই কাজ করে ‘অ্যাপল’।